অনুসন্ধান

সাগরের পানি না মিশে পাশাপাশি যাওয়ার যে ঘটনাটা নিয়ে কথা বলা হয়, সেটা খুবই সাধারণ একটা ঘটনা সারা পৃথিবীজুড়েই। শুধু সাগর না, যেকোনো দুটি নদীর মোহনাতেও একই ঘটনা দেখা যেতে পারে। সব নদী ও/বা সাগরের মিলনস্থলের ক্ষেত্রেই এই ব্যাপারটা ঘটে, কিন্তু বেশিরভাগ সময় সেটা চোখে পড়ে না, কারণ খুব দ্রুতই তারা মিশে যায়। যখন মিশে না তখন সেটা আলাদাভাবে চোখে পড়ে এবং কার্যকারণ না জানা মানুষরা অবাক হয়ে সেটাকে অন্য কোন অলৌকিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করে।

গুগল ইমেজে যদি ‘Two Color River’ লিখে সার্চ দেয়া হয়, তাহলে এরকম আরও প্রচুর উদাহরণ পাবেন যেখানে দুটি উৎস থেকে প্রবাহিত পানি কোন মোহনায় এসে দ্রুত না মিশে গিয়ে পাশাপাশি অনেকদূর চলে গিয়েছে।

Google-এ “two color river” লিখে সার্চ দিয়ে প্রাপ্ত ছবির একাংশ

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

যখন দুটি তরল একসাথে হয় তখন তারা তাদের উপাদানগত ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে খুব দ্রুত একে অপরের সাথে মিশে যায়, মিশতে সময় নেয় বা একেবারেই মিশে না। এই মিশে যাওয়া বা না মেশার ব্যাপারটা সেই দুটি তরল পদার্থের বেশ কিছু গুণাবলীর উপর নির্ভর করে, যেমন, তাপমাত্রা, ঘনত্ব, প্রবাহের হার (ফ্লো ভলিউম), প্রবাহের দিক, খনিজ বা অন্যান্য অপদ্রব্যের পরিমাণ, রাসায়নিক গঠন ইত্যাদি। এই পার্থক্য বা পার্থক্যগুলো যতো বেশি হবে, তরলের দুটি ভিন্ন ধারা মিশতে তত বেশি সময় নিবে। বাড়িতে আমরা সাধারণ কলমের কালি এবং পানি নিয়ে খুব সহজেই নিজেরাও পরীক্ষাটা করতে পারি। গরম পানিতে যতো সহজে কলমের কালি মিশে যাবে, ঠাণ্ডা পানিতে তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগবে। অল্প কালি দিলে মিশতে যতো সময় লাগবে, বেশি পরিমাণ দিলে তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগবে। নিচের ভিডিওটা এই ক্ষেত্রে একটা চমৎকার উদাহরণ হতে পারে।

দুটি সাগরের পানির না মিশে যাওয়ার যে ব্যাপারটা, সেটাও এমনই সাধারণ একটি ঘটনা এবং এটি প্রথম নজরে আসে “কেন ব্রুল্যান্ড” নামক এক প্রফেসরের তোলা গালফ অফ আলাস্কার এক ছবির মাধ্যমে, যেটা তিনি তারা গবেষণার (লিঙ্ক: ১) কাজে তুলেছিলেন, ২০০৭ এ। সে ছবিতে দেখা যায়, একটা নদী গালফ অফ আলাস্কায় গিয়ে পড়ার পর সেটার পানি না মিশে সাগরের পানির পাশাপাশি অনেকদূর প্রবাহিত হতে থাকে।  নদীর পানিতে উপস্থিত অতিরিক্ত আয়রন এবং পলিমাটির কারণে সৃষ্ট ঘনত্বের ভিন্নতার কারণে সেটা মোহনায় গিয়ে সাগরের পানির সাথে সরাসরি এবং দ্রুত মিশে যেতে পারে না, বরং অনেকটা সময় পাশাপাশি চলছে বলে মনে হয়।

পরেরবার এরকম কোন ব্যাখ্যা না জানা ঘটনা সম্পর্কে জানলে ছোট্ট করে একটা গুগল সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন সেই ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় কিনা। আর যদি ইচ্ছে হয়, যাচাই-এর পেজে জানাতে পারেন আপনার জিজ্ঞাসা সম্পর্কে।

প্রথম প্রকাশ:
সর্বশেষ হালনাগাদ:

পাদটীকা

তথ্যসূত্র

  1. Andrew S. and John C.. "USGS Researchers Participate in Research Cruise Studying Iron Biogeochemistry in the Gulf of Alaska". United States Geological Survey. (মার্চ ১, ২০০৮).

মন্তব্য

আমাদের ফেসবুকগ্রুপে আলোচনায় যুক্ত হোন।: www.facebook.com/groups/jaachai