অনুসন্ধান

মূল উৎপত্তি

এই মাসের শুরু থেকে এই ছবিগুলো মিয়ানমারের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। সেদেশের সরকার ও মিডিয়াগুলোর দাবী অনুযায়ী রোহিঙ্গারা ‘নিজেরাই’ নিজেদের ঘরে আগুন দিচ্ছে এবং সেটি প্রমাণ করতেই এই ছবিগুলো প্রচারিত হচ্ছে।

এমনই একটি রিপোর্টে ছবিগুলোর বিবরণে বলা হয়,

“Bengalis set fire to their houses in No.4 ward in Maungdaw Township on September 3”

সেপ্টেম্বর ৬ তারিখে মিয়ানমার সরকার সেদেশের রাখাইন প্রদেশে মংদু, বুথিডং ও রাথেডং অঞ্চলে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়। সরকারের তত্ত্বাবধানে তাদের অঞ্চলগুলো ঘুরিয়ে দেখানো হয়। তাদের হাতে একটি হ্যান্ডবুক দেওয়া হয় যেখানে ছবিগুলো ব্যবহার করে বলা হয়, মুসলিম রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘরে এভাবে আগুন দিয়েছে। অথচ সেই পরিদর্শনে দেখা যায়, মুসলমানরা চলে আসার অন্তত ১ সপ্তাহ পরেও সেখানে তখনো অনেক বাড়িতে আগুন জ্বলছে।

এক পর্যায় তাদের একটি পাবলিক স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে মুসলমানদের হাতে ঘর হারিয়ে স্থানীয় ‘হিন্দু’ ধর্মালম্বিরা ‘আশ্রিত’ আছে বলে তাদের জানানো হয়। যদিও সাংবাদিকরা তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারে তাদের মাত্র ১ ঘণ্টা আগে নিয়ে আসা হয়েছিলো।

প্রচারিত ছবিগুলোতে দেখা যায় কমলা পোশাক পরিহিত একজন মহিলা একটি ঘরে আগুন দিচ্ছে।

সাংবাদিকরা স্কুলের ঐ ‘আশ্রয়স্থানে’ ছবির মহিলাটিকে সনাক্ত করতে পারে। যে কিনা তখনো সেই একই পোশাক পরিহিত ছিলো।

অপর একজন ব্যক্তিকে সাংবাদিকরা সেখানে সনাক্ত করে ‘ইয়াহুলার’ নামে একজন হিন্দু ধর্মালম্বি হিসেবে।

ফেইসবুকে অনেকেই তার ছবি ব্যবহার করে প্রচার করছে সে বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে এসেছেন। তবে তার ছবিগুলো বাংলাদেশে নয়, বরং মিয়ানমার থেকেই তোলা।

ছবিগুলোতে অনেকটা জোর করেই যেন দুষ্কৃতিকারীদের টুপি ও মাথায় ‘হিজাব’ পরিয়ে বোঝানো হচ্ছে মুসলমান হিসেব।

এটি স্বচ্ছ যে স্থানীয়দের ব্যবহার করে মিয়ানমার সরকার এসব প্রোপাগান্ডাগুলো ব্যবহার করছে।

বিবিসির সাংবাদিক জনাথান মার্ক হেড তার ফেইসবুক প্রোফাইলে বিষয়টি তুলে ধরেন ভিডিওসহ।

আমাদের কথা

শোচনীয় বিষয় এই যে একদিকে যেমন চলছে রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বিভিন্ন বানোয়াট ছবি ও ভিডিওর প্রচার, অপরদিকে চলছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের বিরোধিতা করে এই ধরণের প্রোপ্যাগান্ডা। একদিকে যেমন ‘মুসলিম’ ভাই সেজে কিছু ব্যক্তি বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছে, অপরদিকে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কেউ কেউ পাল্টা উসকানি দিচ্ছে বিষয়টি নিয়ে। রোহিঙ্গা বিপর্যয় আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ কোন সমস্যা নয় এবং এই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যেই সহিংস আচরণ খুবই দুঃখজনক। এসব সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে স্বার্থান্বেষী কিছু গোষ্ঠী। যাদের সচেতনভাবে প্রতিহত করা দরকার।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সাহায্য প্রদান করা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু এই বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায় নিয়ে ‘আবেগতাড়িত’ আচরণ করা কারোর জন্যই কল্যাণকর কিছু বয়ে আনবে না।

পাদটীকা

তথ্যসূত্র

  1. "‘Proof’ of Rohingya-set fires in Myanmar fails inspection". AP News. (সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭).
  2. Jonathan Head. "Rohingya crisis: Seeing through the official story in Myanmar". BBC. (সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭).

মন্তব্য

আমাদের ফেসবুকগ্রুপে আলোচনায় যুক্ত হোন।: www.facebook.com/groups/jaachai