অনুসন্ধান

মূল উৎপত্তি

এই সংবাদটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল সম্ভবত ২০১১ সালে। ঐ সালের ১১ই অক্টোবর এই খবরটি প্রকাশিত হয় awamiweb নামের একটি ওয়েবসাইটে। এই ওয়েবসাইটের পূর্বে অনলাইনে এই খবর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি। বিশেষত সৌদি মিডিয়ায় এমন ফতওয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। আলোচ্য সাইটটিও নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে গণ্য করা যায় না। পরবর্তীতে এই খবরটি আরও কিছু বেনামী ব্লগে প্রকাশ পায় এবং ২০১৬-এর দিকে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

‘হ্যালো’ শব্দের উৎপত্তি ও ব্যবহার

প্রচারিত বার্তায় বলা হয় যে Hello শব্দটি এসেছে ‘Hell’ থেকে যার অর্থ জাহান্নাম এবং Hello শব্দদের মানে দাঁড়ায় ‘জাহান্নামি’। এবং ইংরেজরা নিজেরা ফোন উঠিয়ে ‘Hi’ বা ‘Yes’ বলে। এই দাবীটি অসত্য।

বর্তমানে বহুল জনপ্রিয় হলেও Hello শব্দটির ব্যবহার শুরু হয় উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে।[1]  অক্সফোর্ড ডিকশনারি মতে এই শব্দটি Hallo বা Holla শব্দের বিবর্তন, যা এসেছে পুরাতন জার্মান শব্দ halôn, holôn থেকে।[2][3] পূর্বে মাঝিকে ডাকতে ‘দাঁড়াও, নিয়ে যাও’ এমন অর্থে এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হতো। শব্দটির সাথে ফ্রেঞ্চ Holla শব্দটিরও যোগসূত্র রয়েছে বলে ধরা যায়, যা ‘ওই’ বা ‘এই’ -এরকম ডাকার জন্য ব্যবহৃত হতো।

টেলিফোনের জনক এলেক্স্যান্ডার গ্রাহাম বেল (Alexander Graham Bell) টেলিফোনে সম্বোধনস্বরূপ চালু করতে চেয়েছিলেন Ahoy (কারও দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য ব্যবহৃত) শব্দটি। [4][5] কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী থমাস এডিসন (Thomas Edison)-এর কাছে এ বিষয়ে তিনি হেরে যান এবং এডিসন সফলভাবে টেলিফোনে হ্যালো বলার প্রচলন শুরু করেন। এই শব্দটি ব্যবহারের পেছনে এডিসনের যুক্তি ছিলও যে সেইসময়ে প্রচলিত অন্য সব বাক্য (“Do I get you?” and “Are you there?”) তুলনায় সম্বোধন করার জন্য এই শব্দটি সহজতর।[6] টেলিফোনে ব্যবহারের মাধ্যমেই দৈনন্দিন জীবনে সম্বোধন হিসেবে শব্দটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।

অপরদিকে Hell শব্দটি এসেছে পুরাতন ইংরেজি শব্দ hel, helle থেকে যা দিয়ে ‘পাতালে মৃতদের দুনিয়া’ বুঝানো হতো। এই শব্দ দুটির উৎস পাওয়া যায় ‘প্রটো-জার্মানিক’ শব্দ halja থেকে। যার অর্থ ‘যে কোন কিছু ঢাকে বা লুকিয়ে রাখে‘। [7][8] তাই Hello শব্দটি Hell থেকে এসেছে এমন দাবীটি সঠিক নয়।

IslamWeb নামক ইসলাম ভিত্তিক পর্যালোচনার একটি ওয়েবসাইটে এমন দাবীকে ভিত্তিহীন বলে একটি ফতওয়ায় বলা হয় [9]

After much research, we could not find a Fatwa issued by any of the Imaams of the Holy Mosque in Makkah in this regard. Specialists, after studying the origin of the word in English, concluded that there is no connection between the word “Hell” and “Hello” which is used to call someone from a distance to draw their attention or the like.

প্রথম প্রকাশ:
সর্বশেষ হালনাগাদ:

পাদটীকা

তথ্যসূত্র

  1. Douglas Harper. "Hello". Online Etymology Dictionary.
  2. "Hello". Oxford Dictionaries.
  3. "Hello". Wikipedia.
  4. Robert Krulwich. "A (Shockingly) Short History Of 'Hello'". National Public Radio. (ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১১).
  5. Ammon Shea. "The Phone Book: The Curious History of the Book That Everyone Uses But No One Reads". TarcherPerigee. (অক্টোবর ৫, ২০১৭).
  6. Word History. "Where Does 'Hello' Come From?". Merriam-Webster.
  7. Hell. "Etymology and Germanic mythology". Wikipedia.
  8. Barnhart, Robert K.. "The Barnhart Concise Dictionary of Etymology". Harper Collins. ( (1995), page 348.)
  9. Fatwa No : 127381. "Hello has nothing to do with the Hell". IslamWeb. (সেপ্টেম্বর ২৭, ২০০৯).

মন্তব্য

আমাদের ফেসবুকগ্রুপে আলোচনায় যুক্ত হোন।: www.facebook.com/groups/jaachai